প্রবাল দ্বীপে ভরা পূর্নিমায় বর্ষা যাপন…

ঘুরতে ঘুরতে বাউন্ডুলে আমাদের আর সাধারন ট্রিপ ভাল লাগে না…. মার্চ মাসে কক্সবাজার থেকে টেকনাফ বীচ হেঁটে যাওয়ার পর সবাই চিন্তা করছিলাম আর কি ট্রিপ করা যায় যা কিনা একটু অন্যরকম হবে। চারুকলার সামনের ফুটপাথে বসে ভ্রমন বাংলাদেশের আড্ডায় প্রতিদিনি এর ওর মাথা থেকে হাজারো আজব আজব ট্রিপ প্ল্যান বের হয়, আমরা সাইফুল এর মুড়ি চানাচুর খেতে খেতে এক এক করে বাদ দি অথবা সামনের লিস্ট এ রাখি। এমনি এক প্ল্যান ছিল বর্ষার মধ্যে সেন্ট মার্টিন এবং বর্ষার মধ্যে পাহাড়ে যাওয়া। ঠিক করলাম দ্বীপেই আগে যাই, পরে পাহাড়ে যাওয়া যাবে। জুন মাসে মহা সমারহে আমরা ২২ জন রওনা দিলাম, একজন পরের দিন আসবে।

সকালে টেকনাফ পৌছে শুনি একমাত্র জাহাজ সিনবাদ খারাপ আবহাওয়ার জন্য নাও যেতে পারে, শুনলাম ৩ নাম্বার বিপদ সংকেত চলছে। সময় নস্ট না করে আমরা ফোন দিলাম পূর্ব পরিচিত সেন্ট মার্টিনের মাহবুব ভাইকে, উনি বললেন নৌকা নিয়ে চলে আসতে। আমাদের কারো কারো মধ্যে একটু আনণ্দের রেশ দেখলাম যে ৩ নাম্বার সংকেতে সাগরে ভ্রমন করবে এই চিন্তায়, আবার উল্টাটাও দেখলাম কারো কারো কাঁদো কাঁদো চেহারা। যাইহোক আমরা সবাই মিলে টেকনাফের ঘাটে একটা ট্রলারে চেপে বসলাম, টুরিস্ট আমরা ২২ জন, বাকি সব স্থানীয় বাসিন্দা।

১. ট্রলারে করে সাগর পাড়ি:
Photobucket

২. মোহনা:
Photobucket

প্রথমে সবাই কিছু ছবি তুললেও একটু পরে বাধ্য হলাম ক্যামেরা পলেথিনে প্যাঁচিয়ে ব্যাগের ভেতর রাখতে, বড় বড় ঢেউ এসে পানি ছিটাচ্ছে। পথ অর্ধেক যাওয়ার পর শুরু হলো ভয়াবহ ঢেউ, একটা ঢেউ নৌকাকে উপরে নিয়ে যায়, পরের ঢেউটা মাথার উপর দিয়ে যায়। আমাদের মিতু তো নৌকায় উঠার পর থেকেই কেঁদে যাচ্ছে, আরো দুই একজন এবার কাহিল হলো। অবস্থা হালকা করার এবং ভয় দুর করার জন্য আমরা কয়েকজন নৌকার সামনে বসে গান ধরলাম, চট্টগ্রামের চন্দন বেশ আবেগ দিয়ে ধরল “আমি তো মরেই যাব চলেই যাব…..”। আমাদের এহেন বোকার মত আচরনে বিরক্ত হয়ে গালি দিল স্হানিয় এক ভ্দ্রলোক, তার সংগের মহিলা এবং বাচ্চা গলা ফাটিয়ে কাঁদছে, আমাদের গান বন্দ করে আল্লাহ কে ডাকতে উপদেশ দিলেন উনি। কি আর করা আমরা চুপচাপ বসে রইলাম। শেষ পর্যন্ত আমরা যখন দ্বীপে পৌছালাম শুনলাম আমাদের মধ্যে কে যেন ঐ ভদ্র লোককে ঝাড়ি দিচ্ছে লোকাল লোক হয়ে এত ভয় পেলে সাগরে নামার কি দরকার ইত্যদি ইত্যাদি বলে।

প্রতিটা বড় ট্রিপের মত এবারো আমাদের সাথে রান্নার সব সরন্জাম, থাকার জন্য তাবু এসব আছে। রিসোর্টে পৌছে আমরা আমাদের তুবু গুলো এদিক সেদিক লাগিয়ে ফেললাম, যাদের তাবু নাই তাদের জন্য কিছু রুম খুলে দেয়া হল রিসোর্টের। টুটু ভাই গেলেন রান্না ঘরের অবস্থা দেখতে। বর্ষায় রিসোর্ট বন্ধ, আমাদের বিশেষ অনুরোধে এখানে থাকার ব্যাবস্থা করা হয়েছে, সব স্টাফ ছুটিতে চলে গেছে, বাবুর্চিও নাই…… টুটু ভাই প্রথম দিন খিচুড়ি আর ডিম দিয়ে খাওয়ায়ে দিলেন আমাদের, এরি মদ্ধ্যে ঢাকা থেকে বাবুর্চি টুলু মিয়া কে নিয়ে আসার নির্দেশ দেয়া হয়েছে ফয়সাল কে, ওর পরেরদিন আশার কথা।

৩. রিসোর্ট এর রুম আর রাহাত ভাইয়ের তাবু:
Photobucket

৪.ফয়সাল ভাই ও চন্দনের তাবু:
Photobucket

পরেরদিন ফয়সাল ভাইদের নৌকা তীরে আসলেও জেটিতে ভিড়তে পারলো না ঢেউ এর জন্য, এদিকে উনি আবার সাতার জানেন না। এরি মদ্ধ্যে আমরা কজন নেমে গেছি পানিতে উনাকে নিয়ে আসার জন্য।

আমি এর আগে বহুবার এই দ্বিপে এসেছি, শীতে, গরমে, ঝড়ের মধ্য কিছুই বাদ নাই, এইবার বর্ষায় এলাম প্রথম। প্রতি বারই দেখি নতুন রুপ, কোনো বারের অন্য বারের মিল নাই, যেন ক্ষনে ক্ষনে এই নারিকেল জিন্জিরা রুপ পাল্টায়।

৫. ফয়সাল ভাই কে উদ্ধার:
Photobucket

৬. নৌকা:
Photobucket

৭. নৌকা মেরামত:
Photobucket

৮. বর্ষায় সি-বীচ:
Photobucket

৩য় দিন সকালে সবাই মিলে ছেড়াদিয়া বা ছেড়াদ্বীপের উদ্দেশ্যে হাঁটা দিলাম, আসার পথে পড়লাম ঝুম বৃষ্টিতে, পানি যেন গায়ে সুঁচের মত ফুটছে। সবাই কোন রকমে রেইনকোট, পান্চো দিয়ে মুখ ঢেকে বাতাসের সাথে পাল্লা দিয়ে হেঁটে চলেছি….

৯. ছেড়াদিয়া র পথে:
Photobucket

১০. ছেড়াদিয়া র পথে:
Photobucket

১১. চল স্কুলে যাই:
Photobucket

১২. ছেড়াদিয়া র পথে:
Photobucket

১৩. ছেড়াদিয়া:
Photobucket

১৪. ছেড়াদিয়া:
Photobucket

১৫. বাংলাদেশের সর্বদক্ষিন প্রান্তে ফটোসেশন:
Photobucket

১৬. ছেড়াদিয়া থেকে ফেরার পথে বৃস্টিতে সবাই কাহিল:
Photobucket

১৭. ছেড়াদিয়া থেকে ফেরার পথে:
Photobucket

১৮. ছেড়াদিয়া থেকে ফেরার পথে:
Photobucket

১৯. মন্জু ভাইকে ভুতের ভয় দেখানোর প্রস্তুতি…. যদিও ভয় পেলো মিতু ও পলাশ:
Photobucket

আসার দিন শুনলাম খারাপ আবহাওয়ার জন্য নৌকা ছাড়ার কোন ঠিক নাই, আমরা সকাল ৮ টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত ঘাটে বসে রইলাম। শেষ পর্যন্ত আকাশ একটু পরিস্কার হলে আর ঢেউ কমলে কোস্ট গার্ডের অনুমতি নিয়ে নৌকা ছাড়লো। আমরা সবাই অবাক, পুকুরের পানির মত শান্ত তখন সাগর, অথচ ঘন্টা খানেক আগে তা ছিল উত্তাল ও ভয়ংকর।

২০. শেষ দিন, এইবার বাড়ি ফেরার পালা:
Photobucket

২১. শান্ত সমুদ্রে সবাই নৌকার সামনে ফটো সেশনে ব্যাস্ত:
Photobucket

২২. শাহ পরীর দ্বীপ:
Photobucket

২৩. টেকনাফে মাছের নৌকা:
Photobucket

২৪. মাছ:
Photobucket

(নোট: thumbnail ছবিটা তুলেছেন ফয়সাল ভাই)

9 Responses to “প্রবাল দ্বীপে ভরা পূর্নিমায় বর্ষা যাপন…”

  1. Mahbub says:

    Thanks for your e-mail Fazle Rabby. You had nice journey to probal dip a borsay ratri japon. I would be lucky, if I were there.

  2. meherun says:

    ami ami ami asi ! :D ei jonno valo likha :P

  3. Tuhin says:

    I liked your trip very much also ur pic. the resort looks wonderful. Can i have the number? I went cox bazar in a signal 6 and it was also wonderful. Thax for sharing ur feeling with us

  4. pink says:

    eita tor shathe first trip silo monehoi….chera dia jaor pothe golpo hoisilo … :)

    • s21rc says:

      তাই নাকি? আমার তো মনে আছে তোরা পায়ের ব্যান্ডেজ বাধতে ব্যাস্ত ছিলি, বেশি গল্প হয়েছিল আমার শিলার সাথে।

  5. Pinky says:

    deleted those comment… sorry for hurting….

Leave a Reply