কুয়ালালামপুর ও আসেপার্শ্বে……..

ফিলিপাইন এর ম্যানিলা শহরের (দেখুন: প্যাগসাংহানের ঝরনা ও পাহাড়ি ক্ষরস্রোতা নদীতে নৌকা !) কাজ শেষ করে দেশে আসার সময় কুয়ালালামপুরে ৩ দিনের যাত্রা বিরতি দিলাম, ইচ্ছা এই শহর টাকে ঘুরেফিরে দেখা। অন-এরাইভাল ভিসা নিতে অনেকগুলা টাকা খরচ হয়ে গেল, দেশ থেকে ভিসা নিয়ে আসলে অনেক কম ভিসা ফি। যাই হোক, সন্ধা বেলা কুয়ালালামপুর এয়ারপোর্টে নেমে একটা ট্যাক্সি নিয়ে মিডভ্যালি সিটিটেল হোটেল এ উঠলাম, মোটামুটি এই হোটেল টা, সাথেই মিডভ্যালি মল এবং লাইট রেল (এল আর টি – লাইট রেল ট্রানসিট) স্টেশন। এখান থেকে সেন্ট্রাল যেতে ১ রিঙ্গিত লাগে ‍ট্রেনে, বেশ ভালো ব্যাবস্থা।

চাইনিজ নতুন বছর উপলক্ষে চারিদিকে সাজ সাজ রব, শপিংমল গুলো নানা রঙের কাগজে সাজানো, এখানে ওখানে হচ্ছে গান বাজনা সাথে নাচানাচি, বেশ সময় কেটে যায় দেখতে দেখতে।
১.

২.

৩.

৪.

৫.

পরেরদিন সকাল বেলা বের হলাম শহর দেখতে, প্রথমে ইচ্ছা টুইন টাওয়ার দেখার, KLCC নেমে হাঁটা দিলাম, দেখি সুরিয়া শপিং মলের ভেতর চলে এসেছি, ম্যাপ দেখে বুঝলাম টুইন টাওয়ারের কাছাকাছি আছি, এদিক ওদিক অনেক ঘুরাঘুরি করেও টুইন টাওয়ারের দেখা পাই না, যেই গেট দিয়েই বেরহই কোথাও দেখা নাই টুইন টাওয়ারের…… অনেকক্ষন পর শপিংমলের বাইরে বের হয়ে পার্কের ভেতর নেমে উল্টা দিকে তাকিয়ে অবাক আমি, মাথার উপর সুবিশাল পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার, কে জানতো যে শপিং মল এইটার ভিতরে। কিছুক্ষন অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলাম সু-উচ্চ দুই স্তম্ভের দিকে। এর পর বেশ কিছুক্ষন আবার শপিং মলে ঘুরাঘুরি, বেশ কিছু বই কিনলাম। একটা ট্রাভেল/টুরিসম এর দোকান থেকে বেশ কিছু ব্রশিয়র নিলাম আশে পাশে কোথায় যাওয়া যায় জানার জন্য। একুরিয়া নামের বিশাল একুরিয়াম এ মাছ দেখতে গেলাম, এটা সুরিয়া মলের ভেতর দিয়ে যেতে হ্য়।

৬. টুইন টাওয়ারের সামনের পার্ক:

৭. পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার:

৮. একুরিয়ার টানেলের ভেতরে:

৯. একুরিয়ার মাছ:

পরেরদিন উইকিট্রাভেল আর টুরিস্ট কম্পানির ব্রশিয়র গবেষনা করে বাস খুঁজে খুঁজে রওনা দিলাম জেনটিঙ হাইল্যান্ড এর উদ্দেশ্যে, লোভ কেবল কারে চড়ার, পাহাড়ের উপর মেঘের রাজ্যে থিম পার্ক সাথে বিশাল হোটেল আর ক্যাসিনো। রাতে কনসার্ট, কিন্তু সারাদিন ঘুরে বিকালে ফেরত চলে আসলাম, ২ জায়গায় হোটেল ভাড়া গুনার মত সামর্থ বা ইচ্ছা কোনটাই নাই।

১০.

১১. এক নজরে জেনটিং হাইল্যান্ড – মডেল:

১২. সুবিশাল হোটেল:

১৩. ক্যাসিনো:

১৪. মেঘের রাজ্যে হোটেল:

১৫. কেবল কার:

শেষ দিন সকালে গবেষনা করে করে এবার গেলাম বাটু কেভ দেখতে, বিশাল এক সোনালি মূর্তি, তার পেছনে সিড়ি উঠে গেছে পাহাড়ের গা বেয়ে, অনেক উপরে গুহা। গুহার ভেতর হিন্দুদের তির্থ স্হান, বেশ নাম করা বোঝা গেল, অনেক অনেক টুরিষ্ট দেখলাম পুজা করছেন। আশে পাশে কবুতর ও বানর নির্ভয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। গুহার ভেতরে মানুষের চেয়ে বানর বেশি, ছবি তুলতে চাইলে তাড়া দেয় মুখ খিঁচিয়ে, কিন্তু এক প্যাকেট বাদাম দেয়ার পড় বেশ শান্ত হয়ে পোজ দিল ক্যামেরার সামনে :)

১৬.

১৭.

১৮.

১৯.

২০.

২১.

বাটু কেভ থেকে বের হয়ে সিড়ির মাঝামাঝি স্হানে ডার্ক কেভ, অন্ধকার গুহা। ঘেলাম ভেতরে, এক মহিলা টুরিস্ট গাইড হিসাবে আছেন। ২ রকম প্যাকেজ আছে, মিনিমাম ২ জনের জন্য ১ ঘন্টার প্যাকেজ আধা কিলোমিটার হাটা, অথবা ৬ জনের গ্রুপের জন্য সারাদিন ব্যাপি ৩-৪ কিলোমিটারের এডভেন্চার প্যাকেজ। সাথে আর কেউ না থাকায় ২ জনের টাকা জমা দিয়ে খাতায় নাম ঠিকানা লিখে ১ ঘন্টার প্যাকেজের জন্য রেডি হলাম, মাথায় হেডলাইট লাগিয়ে আমি ও গাইড মহিলা রওয়ানা দিলাম। কিছুদুর জাওয়ার পর উপরে বাদুরের শব্দ পেলাম, ছাদ ভর্তি বাদুর নাকি ভ্যামপায়ার আল্লাই জানে। কিছু পথ রেলিং দেয়া, আরেক পার্শ্বে ১০/১৫ ফিট গভীর খাদ, সাপ নাকি আছে অনেক। এক জায়গায় পেলাম লক্ষ লক্ষ তেলাপোকা কিলবিল করছে, এরা নাকি কখন দিনের আলো চোখে দেখেনি। ছবি তুলা সম্পুর্ন ভাবে মানা, ফ্লাশের আলো পড়লে নাকি এইসব বাদুর, তেলাপোকা মরে যায়। আধা ঘন্টা হাটার পর আমরা এসে একটা ঘরের মত জায়গায় পোছালাম, ঠান্ডা প্রান জুড়ান বাতাস আসছে কোথা থেকে যেন। ফেরত আসার পথে গাইড বললো ভয় না পেলে লাইট টা নেভাতে, লাইট নেভানোর পর হাত পা ঠান্ডা হয়ে গেল, জীবনে এতো অন্ধকার কখন দেখিনি, নিকষ কালিগোলা অন্ধকার, বেশক্ষন শহ্য করতে পারলাম না, লাইট জ্বালালাম। গুহার উপর থেকে পানি পড়ে পড়ে কিছু জায়গায় তৈরী হয়েছে স্ট্যালাগমাইট।

২২. ডার্ক কেভ:

২৩. দুরে কুয়ালালামপুর শহর:

২৪. রাতের শহর:

4 Responses to “কুয়ালালামপুর ও আসেপার্শ্বে……..”

  1. pink says:

    bah bah.. valo post eita… ish .. shathe keu na thakae dui jone poisa dia eka ghurli?? tao valo shathe Mohila guide silo.. :P … r tui ato kharap chobi tulti!! ishh…

    • s21rc says:

      তোর মত কি ছবি তোলা আমার নেষা নাকিরে ?
      আমি তো ক্যামেরা কে একটা ইলেক্ট্রনিক গেজেট হিসাবে ব্যাভার করি, ছবি একটা উঠলেই হলো, মাঝে মাঝে তো ছবিও তুলি না। ইদানিং তোর সাথে থেকে থেকে ভালো ছবি তোলার চেস্টা করি, কমপক্ষে ছবি তুলার পর দেখি ছবিটা কেমন হলো।

  2. pinky says:

    :) hmmm… jak kisu akta valo bapar dite parsi toke… ager che akhon onek valo chobi tulish.. ashole baparta holo monojog dear…. age ditina.. akhon dish…. :)

Leave a Reply