বাঁদরের স্কুলবেলা

স্কুলে আমি অনেক পোংটা ছিলাম। প্রতিদিন স্যারের বেতের বাড়ি নাইলে একটা থাপ্পর না খেলে আমার কেমন যেন লাগতো, কি যেন নাই নাই মনে হতো।

ছোট বেলায় আমাদের খারাপ কাজ করার ব্যাপারে খুব উৎসাহ ছিল। আমাদের স্কুলের দুই পাশে রাজশাহী কলেজ, জানালার নিচ দিয়ে কলেজের রাস্তা। আমি আর মানিক প্রায়ই বসে বসে খাতার কাগজ ছিঁড়ে নিয়ে নুড মেয়ে আঁকাতাম (মানিক আঁকতো, আমি ডিরেকশন দিতাম), বেশিরভাগ সময় ছবিগুলা মোটেও অশ্লিল হতো না, বরং জাপানিস কার্টুনের মতো সুন্দর মেয়ে হতো, তারপর আমারা ২ তালার জানালা দিয়ে কলেজের ভেতরে হাঁটতে থাকা কোন মেয়ে গ্রুপের সামনে কাগজটা ফেলে দিতাম। আমাদের আনন্দের শেষ থাকতো না যখন ছবিটা উপরের দিক হয়ে রাস্তায় পড়তো মেয়েগুলার সামনে। আর মন খারাপ হয়ে যেতো যখন কাগজটা উল্টা হয়ে পড়তো মাটিতে। অনেক অনেক দিন পর বড় হয়ে একদিন আমি আর মানিক আলাপ করছিলাম, তখন আমরা খুব হাসলাম যে আমরা কত বোকা ছিলাম। কাগজের দুই পাসে আকলেই তো সমস্যার সমাধান হয়ে যেত, কিন্তু সেই ব্যাপারটা ছোট বেলায় দুষ্ট ব্রেনে কেনো খেলেনি সেইটাই রহস্য।

টিফিনের পর স্কুলের মেইন গেট বন্বধ হয়ে যেত যেন কেউ পালাতে না পারে, আর টিফিনের পর প্র‍্থম ক্লাসে রোল কিল হতো দেখার জন্য কেউ পালিয়েছে কিনা। আমরা ছিলাম আরেক কাঠি উপরে। আমরা প্রায়ই রোল কল শেষ হলে পরের ক্লাসের আগে বের হয়ে যেতাম। সবার প্রথম কাজ ছিল একজন একজন করে বাথরুমে যাওয়া, তারপর ভেতরের ছোট ওয়ালের উপর উঠে ভেন্টিলেটারের ভেতর দিয়ে বাইরে বেরিয়ে যাওয়া, আমরা এই কাচ ভাঙা ভেন্টিলেটারটা পেয়েছিলাম উত্তরাধিকার সূর্তে, আমাদের সিনিয়র রা এই পথে বের হতো, আমরা ছোটবেলায় দেখতাম হা করে। আমাদের সময় আমরাও যাওয়া শুরু করলাম, ছোটরা দেখে হা করে। বাইরের কার্নিশে বেরিয়ে আমরা ঝুপ ঝুপ করে কলেজের ভেতর লাফিয়ে পড়তাম ঝুলে ঝুলে। কলেজে ক্রিকেট খেলার জন্য অনেকগুলা মাঠ ছিল, কোন একটা ফাঁকা দেখে আমরা খেলা শুরু করতাম, আমি যদিও খেলতাম না, সবার ব্যাগ বিছিয়ে আমি আরাম করে গাছে হেলান দিয়ে একটা তিন গোয়েন্দা বা ওয়েস্টার্ন বই খুলে বসতাম।

আমি কখনো ইভ টিজিং করি নাই ঐ বয়সে, কিন্তু মিউটুয়াল কিছু ব্যাপার ছিল আমাদের। আমাদের স্কুল ছুটি হতো ৪:২০ এ আর মেয়েদের স্কুল পিএন ছুটি হতো ৪:৩০ এ। আমরা সাইকেলে করে দল বেধে বাসায় ফিরতাম, পি এন স্কুলের সামনে আসতে আসতে ওদেরো ছুটি হয়ে যেতো, ওরাও রিকশায় রওয়ানা হতো। আমরা এই রিকশা ঐ রিকশার ফাক দিয়ে ঝড়ের মতো বের হয়ে যেতাম, একেকজন যেনো সুপারম্যান। এর মঝে কারো কারো সাইকেলের চেন পড়ে যেতো, তখন মেয়েরা হি হি করে হাসি দিতো, আর বেচারা যার সাইকেল সে মন খারাপ করে সাইকেল ঠিক করতো রাস্তার পাশে দাড়িয়ে, সুপারম্যান থেকে এক ধাক্কায় মাটির মানুষ।

সন্ধা ৬ টা, এপ্রিল ৩০, ২০১৩


Leave a comment