বাঁদরের স্কুলবেলা

টিফিনের পর স্কুলের মেইন গেট বন্বধ হয়ে যেত যেন কেউ পালাতে না পারে, আর টিফিনের পর প্র‍্থম ক্লাসে রোল কিল হতো দেখার জন্য কেউ পালিয়েছে কিনা। আমরা ছিলাম আরেক কাঠি উপরে। আমরা প্রায়ই রোল কল শেষ হলে পরের ক্লাসের আগে বের হয়ে যেতাম। সবার প্রথম কাজ ছিল একজন একজন করে বাথরুমে যাওয়া, তারপর ভেতরের ছোট ওয়ালের উপর উঠে ভেন্টিলেটারের ভেতর দিয়ে বাইরে বেরিয়ে যাওয়া, আমরা এই কাচ ভাঙা ভেন্টিলেটারটা পেয়েছিলাম উত্তরাধিকার সূর্তে, আমাদের সিনিয়র রা এই পথে বের হতো, আমরা ছোটবেলায় দেখতাম হা করে। আমাদের সময় আমরাও যাওয়া শুরু করলাম, ছোটরা দেখে হা করে। বাইরের কার্নিশে বেরিয়ে আমরা ঝুপ ঝুপ করে কলেজের ভেতর লাফিয়ে পড়তাম ঝুলে ঝুলে। কলেজে ক্রিকেট খেলার জন্য অনেকগুলা মাঠ ছিল, কোন একটা ফাঁকা দেখে আমরা খেলা শুরু করতাম, আমি যদিও খেলতাম না, সবার ব্যাগ বিছিয়ে আমি আরাম করে গাছে হেলান দিয়ে একটা তিন গোয়েন্দা বা ওয়েস্টার্ন বই খুলে বসতাম।

প্রথম প্রেম ও মাটির ময়না

“এই গল্পের সকল নাম ও চরিত্র কাল্পনিক, কারো সাথে মিলে গেলে তা নিতান্তই কাকতলীয়” ফারিনের সাথে প্রথম পরিচয় আমার বন্ধু রাশেদের মধ্যমে। ও ঐসময় একটু ঝামেলাতে ছিল, ফোনে প্রায়ই কথা হতো। আস্তে আস্তে প্রয়োজন ছাড়াও কথা বলা শুরু হলো, একটা সময় আসলো আমরা একটু পর পর ফোনে কথা বলতাম নাহলে মেসেজ মেসেজ খেলতাম। সময়টা ২০০১ […]

একাকিত্ত্বের ১৪২০ ও অন্ধকারের আমি

দেখতে দেখতে আরেকটা নতুন বছর চলে আসলো। আজ ১৪১৯ এর শেষ দিন….. আজ রাতে থাকার কথা ছিল বান্দরবানের পাহাড়ী ঝিরির ধারে আগুনের পাশে অথবা কুয়াকাটায় সাগরের পাড়ে। বাস্তবতার সব ভুলে প্রিয় মানুষগুলোর সাথে জঙ্গলের ভেতর তুমুল আড্ডা বা নিশ্চুপ হয়ে সাগরের দিকে চেয়ে থাকা। শালার জীবনটাই যেন কেমন, সারাদিন বাসায় ঝিম মেরে বসে থেকে সন্ধায় […]

পৃথিবীর সকল বাচ্চাদের কে জন্মদিনের শুভেচ্ছা

তখন মনে হয় কলেজের ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি। প্রতিদিন বিকালে আমরা সাইকেলে করে ঘুরতে বেরুতাম, একটা রুটিনের মত ছিল। চপল, রনি, আমি আর রাজিব এক সাথে হয়ে নিজেদের কারো বাসায় আড্ডা দিতাম অথবা অন্য কোন বন্ধুর বাসায় হানা দিতাম, কিছুক্ষন বাইরে ঘুরতাম নাহলে নদীর ধারে চলে যেতাম এই ছিল রোজকার রুটিন আমাদের। তখন ফেসবুক বা সেরকম কিছু ছিলনা বার্থডে মনে রাখার, আমাদের সবারই একটা করে ছোট খাতা থাকতো ঠিকানা ফোন নাম্বার এইসব লেখার জন্য, কারো কারো খাতায় জন্মদিনও লেখা থাকতো।

একটি দুর্দান্ত কেস ও তিন গোগোন্দার সমাপ্তি

একদিন হন্তদন্ত হয়ে রুপক হাজির, সে একটা কেস পেয়েছে, আমাদের বললো স্কুলের পর অপেক্ষা করতে। কথামতো আমরা স্কুল শেষে একসাথে রওয়ানা দিলাম। রুপক আমাদের নিয়ে গেলো রাজশাহী কলেজের ভেতরে একটা ভাংগা পরিত্যাক্ত বিল্ডিংএ, আমরা বল খুজার ভান করে দেখতে লাগলাম কয়কটা ছেলে কি যেন করছে গোল হয়ে। রুপক বুঝায়ে বললো ওরা ড্রাগস পাচারকারি দলের সদস্য,

যতদুর মনে পড়ে…..(২)

আমরা সাগরপাড়া নামের এলাকায় থাকতাম, এমন নামের মানে কি কে জানে, আশেপাশে অনেক বড় বড় পুকুর ছিল বলেই হয়তো। ক্লাস ৫ এর আগে পর্যন্ত খুব সমস্যায় ছিলাম, আমার স্কুল ছিল খুব সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মর্নিংশিফটে আর আমার এলাকার বাকি সবাই অন্য স্কুলে, তাদের কোন মর্নিংশিফট ছিল না। আমি যখন স্কুল থেকে ফিরতাম, অন্য সবাই […]

আমার স্কুল বেলা (১)…

কেজি স্কুল থেকে ক্লাস ৩ এ কলেজিয়েট স্কুলে ভর্তি হলাম, নতুন জীবন শুরু হলো। কেজি স্কুল টা ছিল ছোট্ট একটা বাসার মত, আমরা খেলতাম ভেতরের উঠানে বা ফাঁকা ক্লাসরুমে, সেই তুলনাই কলেজিয়েট স্কুল আক্ষরিক অর্থেই বিশাল, বড় একটা সবুজ মাঠ, চারিদিকে বড় বড় বিল্ডিংএ ক্লাসরুম। মাঝখানে একটা পুরাতন একতলা ভবন, অনেক আগেই পরিত্যাক্ত ঘোষনা করা […]

ছোট্ট বেলার কেজি স্কুল

আমি সবার প্রথমে পড়েছি কেজি স্কুলে, কেজি থেকে ২ ক্লাস পর্যন্ত, তারপর কলেজিয়েট স্কুলে ৩ থেকে ১০ ক্লাস। কেজি স্কুলের বন্ধু সবার কথা মনে নাই, শুধুমাত্র যারা পরে একি সাথে কলেজিয়েটে ভর্তি হয়েছিল তাদের কথা মনে আছে। কত অর্থহীন কিন্তু মজার মজার কান্ড হতো ঐ সময়ে, একটা মেয়ে কে সবাই খেপাতাম, এক হাতে তালি বাজে […]

সাইকেলের ঝুড়িতে ভ্রমন ও আমার বাবু চাচা…

আমি তখন অনেক ছোট, বাসার একমাত্র বাচ্চা। মনে হয় আমার চাচাদের আদরের খেলনা ছিলাম। আমার সবচেয়ে ছোট চাচা, নাম বাবু, আমি ডাকি বাবু চাচা, উনিও তখন বেশ ছোট, স্কুলে পড়তেন মনে হয়- অথবা কলেজে। মনে আছে বাবু চাচা আমাকে তার সাইকেলে করে বিভিন্ন যায়গায় নিয়ে যেত। প্রথম প্রথম সাইকেলের সামনের ঝুড়ির মধ্যে বসে যেতাম আমি, […]

যতদুর মনে পড়ে….

বেশ অনেক্ষন ধরে চেষ্টা করে যতদুর মনে পড়ছে: অনেক ছোট্ট একটা আমি, রাজশাহীর বাসার খোলা বারান্দায় বসে আছি, সামনে একটা বর্ণমালার বই মনে হয়, মাঝে মাঝে কেউ এসে দেখিয়ে দেয়। আমার কিন্তু বইএ কোন মনোজোগ নাই, তাকিয়ে দেখছি সামনের লেবু গাছে চড়ুই পাখির খেলা, অথবা মাটিতে পিঁপড়ার দল। কত বয়স হবে, ৩ বা ৪, সামনে […]