ক্যারিবিয়ান এর মোলিন সুর মের বিচ হোটেল

অনেকদিন পর লিখতে বসছি দেশ থেকে অনেক দুরে ভিন দেশের মাটিতে। কাজের প্রয়োজনে আসতে হয়েছে হাইতি, আমেরিকার ঠিক নিচে ক্যারিবিয়ান এর একটা দ্বীপ দেশ। গত সাপ্তাহিক ছুটির দুই দিন গেছিলাম সাগরের ধারে বিচে থাকতে। হাইতির রাজধানী পোর্ট-ও-প্রিন্স এর এয়ারপোর্ট এলাকা থেকে প্রায় ১ ঘন্টার পথ গাড়িতে। সাগর পাড়ে ছোট ছোট পাথুরে বিচ, কিছুদুর পর পর [...]

পুলাও পায়ার মেরিন পার্ক (৩)

আগের ২ পর্ব: লাংকায়ির বিচ ও কেবল কার (১): লানকাউয়ি আইল্যান্ড হপিং…. (২) লানকাউয়ি তে ৩য় দিন আমাদের পরিকল্পনা পুলাও পায়ার মেরিন পার্কে যাওয়ার। এই ট্রিপের সবচেয়ে দামি প্যাকেজ এই মেরিন পার্ক, জন প্রতি ৪০০ রিঙিত খরচ, সারাদিনের ট্যুর। সকাল বেলা আমরা ট্যুর কম্পানির লোগো লাগানো ব্যাজের মত স্টিকার জামাতে লাগিয়ে ফ্রানজিপানি হোটেল এর সামনে [...]

লানকাউয়ি আইল্যান্ড হপিং…. (২)

লানকাউয়ি র কেবল কার ও বিচ (দেখুন: লাংকায়ির বিচ ও কেবল কার) দেখা শেষ করে পরের দিন প্ল্যান আইল্যান্ড হপিং এর, বোটে করে বিভিন্ন ছোট ছোট আইল্যান্ডে যাওয়া হবে। আগের দিন হানি জোন হলিডেস এন্ড ইনোভেশন এর হাস্যজ্বল যুবক রাফ এর সাথে প্যাকেজ কনফার্ম করে এসেছিলাম। আইল্যান্ড হপিং ৪-৫ ঘন্টার প্যাকেজ, জন প্রতি ৪৫ রিংগিত [...]

লাংকায়ির বিচ ও কেবল কার

এয়ার এশিয়ার লোভনিয় টিকেটের দাম দেখার পর বেশ অনেকদিন ধরেই পরিকল্পনা চলছিল মালায়শিয়া যাওয়ার। দেখতে দেখতে ৩ জনের দল ১৪ জনে পরিনত হলো। প্রথমে ১৫০ ডলারে রিটার্ন টিকেট করা হলেও একবার ডেট বদলানোর জন্য ফাইন সহ ৩০০ তে ঠেকলো দাম। নানা ঝামেলার শেষে ১০ জন আমরা রওয়ানা দিলাম ৩০ জুলাই বিকাল ৬ টার উড়জাহাজে। কুয়ালালুমপুর [...]

ফিউয়া লেক ও মাচ্ছাপুচ্ছরে পর্বত…. (পোখারা, নেপাল)

গত ঈদের ছুটিতে আমি আর আমার এক বন্ধু ঠিক করলাম নেপাল বেড়াতে যাব। নেপাল যাওয়ার সুবিধা আছে, ভিসার ঝামেলা নাই, অন এরাইভাল ভিসা, তারউপর ভিসা ফি লাগে না বছরে ১ বার ঢুকলে। ঈদের ২ দিন আগে আমরা জিএমজি তে চেপে বসলাম, গন্তব্য কাঠমান্ডু। অফিসের কাজের সুবাদে সবসময় বড় বড় এয়ারলাইনে ঘুরেছি, এই প্রথম জি এম [...]

কুয়ালালামপুর ও আসেপার্শ্বে……..

ফিলিপাইন এর ম্যানিলা শহরের (দেখুন: প্যাগসাংহানের ঝরনা ও পাহাড়ি ক্ষরস্রোতা নদীতে নৌকা !) কাজ শেষ করে দেশে আসার সময় কুয়ালালামপুরে ৩ দিনের যাত্রা বিরতি দিলাম, ইচ্ছা এই শহর টাকে ঘুরেফিরে দেখা। অন-এরাইভাল ভিসা নিতে অনেকগুলা টাকা খরচ হয়ে গেল, দেশ থেকে ভিসা নিয়ে আসলে অনেক কম ভিসা ফি। যাই হোক, সন্ধা বেলা কুয়ালালামপুর এয়ারপোর্টে নেমে [...]

কয়েকদিন রোমান সম্রাজ্যে অনর্থক ঘুরাঘুরি….!!

আমার সাথে ভেনিস এর জলপথে যারা সঙ্গি হয়েছিলেন তাদের আজ নিয়ে যাব রোমান সম্রাজ্যে। ভেনিস থেকে রাতের ট্রেন এ রওনা দিলাম রাজধানী রোম বা রোমা-র উদ্দেশ্যে। রাতের ট্রেনে যাওয়ার একমাত্র কারন মুল্যবান সময় সেভ করা, সাথে বোনাস হিসাবে হোটেল ভাড়া বেঁচে যাওয়া তো আছেই, খারাপ দিক বাইরের দৃশ্য দেখতে দেখতে যাওয়া হয় না। স্লিপার কামরায় [...]

একদিন আল্পস এ…

গতবছর জার্মানির যে স্হানে একটা ট্রেনিং করছিলাম আমরা সেখানে ধুধু মাঠের ওপাশে দুরে দেখা যেত বরফাচ্ছন্য আল্পস পর্বতমালা। এই আল্পস কে বিভিন্ন ভাষায় ভিন্ন ভিন্ন নামে ডাকা হয় যেমন আলপাইন, আলপি, আলপে ইত্যাদি। এক রবিবার ঠিক করলাম আমরা পাহাড় দেখতে যাব, সঙ্গি হিসাবে আরো কয়েকজন কলিগ কে পটায়ে ফেললাম খুব অল্প সময়ের মধ্যে। ওখানকার একজন [...]

ভেনিস এর জলপথে…

ট্রেন স্টেশন থেকে বেরিয়েই মাথায় হাত, সামনে দেখি নদী, রাস্তা ঘাট কিছুই দেখি না। ভুল বললাম, রাস্তা না দেখা গেলেও ঘাট দেখা যাচ্ছে। ষ্টেশন এর ভেতরের টুরিষ্ট অফিস থেকে হোটেল বুকিং দিয়েছি, সাথে ম্যাপ আর শহরে চলাচলের নির্দেশিকা ফ্রি। বুড়ি মহিলা বলে দিয়েছে স্টেশন থেকে বের হয়ে বড় রাস্তা ধরে বাম দিকে কিছুদুর গেলে হোটেল দেখতে পাবো, নদীনালা পার হওয়ার কথা বলে নি কিছুই।

আবার ঢুকলাম ভেতরে, রাস্তা খুঁজে পাইনি জানাতে ফোকলা দাঁতে হাসি দিয়ে বলল স্টেশনের বাম দিক দিয়ে হেটে যেতে। হাটা শুরু করে বুঝলাম এই চিপা রাস্তাই এখানে বড় রাস্তা। হোটেল দেখে তো মনে মনে গালি দিলাম বুড়ি কে, বলেছিলাম মাঝারি মানের হোটেল চাই যেখানে এটাচ বাথ ও ডাবল সাইজ বেড ওয়ালা রুম আছে, বেশ অনেকগুলো ইউরো গুনে এসেছি নগদ অথচ এখন দেখি পালেস্তারা খসা পুরান ঝরঝরে এক বাসার উপর হোটেলের নাম শোভা পাচ্ছে (চিৎ-কাত বোর্ডিং এর মত চেহারা)। কি আর করা মনে মনে নিজের কপাল কে গালি দিতে দিতে রুমে ব্যাগ রেখে বাইরে বের হলাম ঘুরতে, একটু পরে অবশ্য বুঝতে পারলাম এখানে সব ঘরবাড়িই সেই পুরানো আমলের, কোন কিছুই বদলান হয় নাই। পাঁচ তারা হোটেল থেকে শুরু করে ডিজনির শোরুম সবই ভাঙা দালানে।

ভি-স্যাট এর অপর প্রান্ত.. আর্থ ষ্টেশন (যারা সবসময় যন্ত্রপাতি খুলে দেখতে পছন্দ করেন তাদের জন্য..)

এই টেলিপোর্ট এর ২৫মিটার ডায়ামিটারের প্রথম এন্টেনা টা তৈরী করা হয়েছিল ইন্টেলস্যাট-১ এর জন্য যা কিনা পৃথিবীর ৫ম স্যাটেলাইট এন্টেনা । ৩য় এন্টেনা টা তৈরী করা হ্য় ১৯৭২ এর অলিম্পিক গেমস প্রচারের জন্য। বর্তমানে সর্বমোট ১৯টি দৈতাকৃতির এন্টেনা ও ১,২০,০০০ বর্গফুট ডাটাসেন্টার নিয়ে চলে এর কাজকর্ম। ২০০৬ সালে “ইমার্জিং মার্কেটস কমিউনিকেশন” নামের বেসরকারি প্রতিস্ঠান এই টেলিপোর্ট এর মালিকানা গ্রহন করে।

এই টেলিপোর্ট টি রেইস্টিং এ তৈরির কারন এই স্হানে কয়েকটি হাইস্পিড ফাইবার কেবল এর টার্মিনেশন রয়েছে, এবং এখান থেকে স্যাটেলাইট ট্র্যাক করার কি নাকি একটা সুবিধা রয়েছে যা পৃথিবীর মাত্র কয়েকটি যায়গায় সম্ভব (ব্যাপার টা আমার মাথায় ঢুকেনি ঠিক ভাবে)। ফাইবার ল্যান্ডিং টা এখন এই টেলিপোর্ট এর ভিতরে কিন্তু সেটুকুর মালিকানা এখনো জার্মান টেলিকম এর। ৩য় বিশ্বযুদ্ধ এবং নিউক্লিয়ার বোমার কথা চিন্তা করে মাটির অনেক নীচে আছে একটি বিশাল ফ্যাসিলিটি, সেখানে এখনো রাখা আছে শোয়ার জন্য খাট, খাওয়ার পানি ও অন্যান্য রশদ।